জুম্মোবি তোকে পাশে চাই
✍️S.M.
চলেছি একা রাঙ্গামাটির জুম পথে,
বরপরঙের আগে মোদের অবস্থানের খোঁজে।
রাঙ্গামাটির জুম পথের এপাশে-ওপাশে,
হাজারো মানুষের ভিটেমাটি ডোবানো সেই বাধেঁর জল।
হাঁটতে হাঁটতে হাঁফিয়ে রায়,জুমঘরে জিরোয়,
কথা বলি সনের চালার মাচাং ঘরের সাথে।
আমি ভাবি!!মাচাং ঘর যেন আমায় বলে,,,
আমায় দেখ!আমি যেমন হারিয়ে যাচ্ছি, তেমনি
হারিয়ে যাচ্ছে তোদের আগেকার দিনের সামাজিক,
জীবন-যাপনের না জানা দিনগুলো!!!!
আবার হাঁটি! ডিঙিয়ে যায় পাহাড় আর পাহাড়,
নানা-নানিদের সাথে আগের দিনের গল্প হয়।
রাজবাড়ীর গল্প,মাউরুম ছড়ার গল্প,বরপরঙের গল্প,
ষাট দশকের আগের জীবন-যাপনের গল্প হয়।
সন্ধ্যার আঁধারে মাচাং ঘরের বারান্দায় আড্ডা হয়।
নানান ইতিহাস, নানান গল্প,নানান আশা-আকাঙ্খা
হাজারো লোকের জীবনযুদ্ধের গল্প নিয়ে,,,,
ফেরার জন্য হাঁটছি আবারও জুমপথে একাকী,
জুমঘরে জিরোয়, সন্ধ্যা হয়ে আছে,আর মনে ভাবি,
আর বলি,,,
কান্তারের পথ ছেড়ে সন্ধ্যার আঁধারে,
যদি কোন এক জুম্মোবি এসে ডাকতো আমারে!!
যদি বলতো তোমার সমাজ-সভ্যতার চেতনায়,
প্রগতির চেতনায় আমিও পাশে থাকতে চাই!!!!
Author Archives: Sumon world's
Watch “ধর্মীয় গান:জনম লোলে মরি পাই __রুবেল চাকমা___দয়ামালা চাকমার দাহকার্য ২জুলাই ২০২২রোজ শনিবার” on YouTube
চাকমা কবিতা-“রেদোর স্ববন”
রেদোর স্ববন
Written by SUMON CHAKMA
স্ববন দেগঙ মুই রেদো সমবাগত,
সুগ পিরি ইস্সে এই মোনমুড়ো ঝাড়ত্।
আগঅ্ সান্নে গুরি,মাআ ঝাড়ত্ ঘুরি ঘুরি
তোনপাত তগে আনেল্লোই।
মোনোমাদা,তারেঙোমাদা ঘুরি ঘুরি
দারবো হাবি আনেল্লোই।
জুম্মো বোনুন যাদন একজাগ মিলি,
যাদন ঝাড়ত আলু হুরো।
আগঅ্ সান্নে গুরি গীদে-রেঙে,
মুজি আগন গুরো-বুড়ো।
স্ববন দেগঙ মুই রেদো সমবাগত,
নানু শোনাল পজ্জঙ্ ইজোরো দাগত বোই ।
স্ববন দেগঙ মুই রেদো সমবাগত,
আযু শোনাল গেঙুলি নানু দাগত বোই।
স্ববন দেগঙ মুই রেদো সমবাগত
সুগর বেলর ছদক রাঙাসিকসিক গুরি জলেল,
স্ববন দেগঙ মুই জুনোপরত্ আজি আজি বোননো নাজেল্।
হঠাৎ গুরি ভাঙি যায় মর দোল স্ববনআন,
বিরুঙ বিরুঙ গরে বানা মর পরানান্।
মনানে হই্ বানা হোমলে পুরেবঅ্
মর এই দোল স্ববনআন।
চাকমা গল্প
“পজ্জঙ”(গল্পগুজব)
Written by সুমন চাঙমা
একদিন কলেজ ছুটি পেয়ে,তাড়াতাড়ি বাসায় এসে ব্যাগ গোছাতে শুরু করলাম। তারপর ব্যাগ গোছানো শেষে,অনেক হাসি খুশি মনে আমার মাকে ফোন করলাম। মাকে ফোন করে বললাম…মা আমি আজ রাত আটটার বাসে উঠবো! আমি বাড়িতে আসবো,আমরা কলেজ ছুটি পেয়েছি।তারপর রাত সাড়ে ছয়টায় রাতের খাবার রান্না করলাম। সাতটায় খাওয়া-দাওয়া শেষ করে চার তলা থেকে লাগেস্ট হাতে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলাম,,,ঠিক সেই সময় মোবাইলের রিং বাজতে লাগলো। মোবাইলটা বের করে দেখলাম বাবার ফোন! বাবাকে বললাম,,, বাবা আমি বেরিয়ে পড়েছি, তোমরা চিন্তা করো না!কাল সকালে বাস স্টেশনে পৌঁছলে আমি তোমাদের ফোন করবো। তারপর রওনা দিলাম ঢাকার গুলশান থেকে আমার জন্মভূমি খাগড়াছড়িতে। তারপর কিছুক্ষণ পর বাস স্টেশনে পৌঁছালাম। রাত 8 টা 10 মিনিটে বাসে উঠলাম।বাসে জানালার পাশে একটি সিটে বসে পড়লাম তারপর কিছুক্ষণ মোবাইল ঘাটাঘাটি করে , ব্যাগ থেকে এয়ার ফোন বের করে গান শুনতে লাগলাম। গান শুনতে শুনতে আমার মনে শুধু একটাই চিন্তা ভাবনা যে,, কখন বাড়িতে পৌঁছাবো!এসব চিন্তা করতে করতে কখন যে কুমিল্লা বাস স্টেশনে এসে পৌছালাম টের,,ই পেলাম না। তারপর ওখান থেকে বাস ছেড়ে আবারও এসব ভাবনা আমার মনে বাজনা বাজতে লাগলো!কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম টের ই পেলাম না।তারপর সকালে চোখ মেলে দেখলাম খাগড়াছড়ি বাস স্টেশনে।বাস থেকে নেমে প্রায় 30 মিনিট পর আমার নিজের বাড়িতে পৌঁছালাম। আমার বাবা-মা, দাদা-দাদি আর আমার বোন আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। আমি প্রথমে বাবা-মা, দাদা-দাদী কে প্রণাম করলাম। সেদিন অনেক দিন পর বাড়িতে গিয়েছিলাম তাই অনেক খুশি হয়েছিলেন আমার মা-বাবা ও পরিবারের সবাই। আমাদের দুই ভাই বোনের একটা অভ্যাস ছিল যে আমরা দাদির কাছ থেকে বিকেলে গল্পগুজব শুনতাম। তাই সেদিন রাতেও খাবার খেয়ে আমি আর আমার বোন দাদা-দাদীর কাছে বায়না করতে লাগলাম যে,আমাদের পজ্জঙ(গল্প) শোনাতে।তারপর দাদা আর দাদি আমাদের শোনাতে লাগলো সেই,,,১৯৫৮থেকে১৯৬২ সালের “বড়গাঙ মু”(কাপ্তাই মুখ) এ বাঁধ দেওয়ার কথা। তারপর কিছুক্ষণ পর যখন বাঁধ দেওয়ার ফলে,,, নিজের ভিটা ছেড়ে চলে যাওয়া, ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ার কথা, কোথায় যাবো?কি খেয়ে বেঁচে থাকব? দেশ সেরে যেতে হবে, থাকতে হবে অন্য দেশে শরণার্থী হয়ে। এসব কথা শুনতে-শুনতে কখন যে,,চোখ দিয়ে পানি ঝর ঝর করে পড়ে গেল আমি কিছুই বুঝতে পারেনি। তারপর পজ্জঙ শেষ করে দিয়ে দাদা আর দাদি ও আমার বোন ঘুমাতে গেল। সেদিন রাতে চাঁদের আলোয় নিঝুম রাতের দৃশ্যটা ছিল বেশ ভালো। তারপর আমি আবার বাইরে একা বসে বসে ভাবতে লাগলাম ১৯৫৮ সালে কাপ্তাই বাঁধ দেওয়ার কথা। সেসময় আমাদের পাহাড়ি মানুষদের কষ্টগুলো যেন অন্যরকম।সেসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে,,রাত গভীর হলো বুঝতেও পারিনি।যখন মোবাইলটা দেখলাম তখন দেখলাম রাত ১২টা বাজার আর ও ১৫ মিনিট বাকি। তারপর আর কিছু না ভেবে ঘুমাতে গেলাম।
সেদিনের অনুভূতিটা ছিল যেন শত শত রাশি বেদনার।
তারিখ-০৮/১২/২০২১
যখন চাকমা ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হই,,,তখন আমার অনুভূতিতে যা ছিল,,,
২০২১ সালে যখন আমার চাকমা ভাষার প্রতি টান সৃষ্টি হয়,,,, আমি তখন ভেবেছিলাম নিজের মাতৃভাষার বর্ণ হয়তো শিখতে পাবো না,,তাই আমার অনুভূতি প্রকাশে এই কবিতাটি লেখা।
“মনত দুঃখ”
_সুমন চাকমা
চাঙমা অনে ওই চাঙমা লেগা
শিগি নপাঙ ভারী মনত দুখ,
চাঙমা লেগা শিগি পেদুঙ
লাগিদো ভারী মনত সুখ।
চাঙমা লেগা শিগি নপেই
শিগি পেই বানা হদা,
চাঙমা লেগা শিগি পেদুঙ
লিগিদুঙ মনর হদা।
চাঙমা লেগা লিগিবার
মর ভারী ধাপ,
চাঙমা লেগালোই বোঝেই দিদোঙ
আমি জুম্মো জাত।
দিগিলে শিগিবার মনে হয়
হি দোল ওক্কোরুন,
লিগিবার সেলে লিগি নজানঙ
গেচ্ছে শিগি নপেই হুত্তুন।
হবালোত নেই শিগি নপেই
হি আর গুরিবোঙ,
মনে হয় শিগি নপেবঙ
ইয়ান মানি লুয়োঙ।
জন্মিয়েই মানজো দেজত
শিগা পুরিবো মানজো ভাষা,
ন শিগিলে ন থেবো আমার
ইদু বাজিবার আজা।
পিত্তিমি সমারে চলিবার সেলে
শিগা পুরিবো আর অ নানান ভাষা,
সিগি পাললে যদো বদে গুরি
থেব অ আমার বাজিবার আজা।
ইয়েনির মধ্যে যে তে যায়
এক্কান মনত দুঃখ,
নপেবঙ নিজো ভাষা লিগিনে
মনত সুখ।।।।
তবে আমি নিজে চেষ্টা করে কিছুটা শিখে নিলাম আমার নিজের মায়ের ভাষার বর্ণমালা,,,আর ২০২২ সালের জুন মাসেই সরকারি ভাবে চাকমা ভাষা ও বর্ণমালা প্রশিক্ষণ নিয়ে আমি আমার মায়ের ভাষা আয়ত্ত করলাম।আশা করি আমিও শেখাতে পারবো,,,তাই আমি গর্বিত যে, এবার থেকে গৌরব বোধ করে বলতে পারবো আমার ও নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা আছে।আমি এই প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা সার্থক করতে চাই,,,, অন্যদের উৎসাহিত করে।
অনুভূতির কথা
মন খারাপের দেশে
Writen by SUMON CHAKMA
আজ কিছু লিখবো এমন একটা জায়গায় বসে,,,! যেখানে কারোরই মন ভালো নেই।ঠিক তেমনি আজ আমার ও মন ভালো নেই। অনেক চিন্তায় আছি,,বুক ধরফর করছে।বসে আছি রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের ৩য় তলার ৭নম্বর বেডে,,,,আমার দাদিকে নিয়ে,,সাথে রয়েছে আমার মাসি।
চারিদিকে রোগী আর রোগী,,তার সাথে বসে আছে তার আত্নীয়-স্বজন!! ঠিক তেমনি বসে আছি আমি ও। মনে মনে ভাবছি কর্মের এ কেমন খেলা।ক্ষণে ক্ষণে বেড ও কেবিন খালি হয়,, মুহূর্তেই আবার সেই বেড ও কেবিন পূর্ণ হয়। কিছুক্ষণ পর পর যখন রোগীর যন্ত্রনার শব্দ শুনি তখন বুকটা যেন ধরফর করে উঠে। মনে মনে তার জন্য মঙ্গল কামনা করছি।
মনে হয় এ যেন মন খারাপেরই দেশ। যেখানে সবারই মনে একই চিন্তা,সবারই একই ভয় থাকে।সবসময় চিন্তা থাকে কখন ভালো হবে/হবো আর কখন বাড়ি যাব।
মনমরা মনে বসে আছি দাদির পাশে,, কিছুক্ষণ পর পর মোবাইল টিপি।আর হঠাৎ করে মেডিসিনের প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে আগমন হয় নার্সের।তখনই ছুটতে হয় ওষুধের প্রেসক্রিপশন নিয়ে হসপিটালের পাশা থাকা ডাক্তারের দোকানে।
তারপর দেখি রোগীর সাথে রোগীর ভাব হয়,,, তাদের সমস্যা গুলো বলাবলি করে,,,কি অসুখ,কোথা থেকে এসেছেন,এরকম করে ভাব হয়। এগুলো দেখে আমার মনে হয়,পুরো হাসপাতালটাই যেন একটা দেশ। যেখানে সকল নাগরিকের মন খারাপ।আর একেকটা তলাকে মনে হয় যেন, একেকটা বিভাগ আর একেকটা রুমকে মনে হয় যেন একেকটা গ্রাম।একেকটা বেড আর কেবিনে থাকা রোগী আর তার আত্নীয়-স্বজন যেন মন খারাপের দেশে একেকটা পরিবার।
আর এখানে দেখা হয় বন্ধু এবং আত্নীয় স্বজনদের সাথে,,, তাদের ও আসতে হয়েছে মন খারাপের দেশে।যেমন আমার সাথে দেখা হয় আমার বন্ধুর! আমাদের আগে এসেছেন তারা,,তার মা অসুস্থ।নিশ্চিত নেই সুস্থ হওয়ার,,, অনেক খারাপ লাগছে এগুলো শুনে।
তবে কিছুটা ভালো লাগে নার্স ও ডাক্তারদের সেবা দেখে,,মনে মনে আগ্রহ জাগে তাদের মতোন হওয়ার। আমি জানি এসব চিন্তা ভাবনা আমার কাছে “আকাশকুসুম” যা, কিছুতেই সম্ভব নয়। তবুও তাদের সেবা দেখে আমার ও ইচ্ছা জাগে,,,যদি আমিও সেবা করতে পারতাম।
মন খারাপের দেশে থাকা সব পরিবারের দুঃখ দেখে মন খারাপ আজ,তাই আমি মনে মনে সকলের মঙ্গল কামনা করি।কার কখন কি হয় কেউই জানেনা,কে বলতে পারে কখন আমাকে ও আসতে হয়,এই দেশে নিজেরই কোনো সমস্যাই,,তবে কামনা করি তা যেন না হয়।
রাতে ঘুমাতে মন চায় না,দাদির কখন যে কি হয় ঠিক নেই,,,তাই মোবাইল টিপি কিছুক্ষণ,, তবুও চোখের ঝিমুনি যায় না,,,কাল রাত বারোটা পর্যন্ত বেডের পাশে বসে থাকলাম,,,তার পর কখন ঘুমিয়ে পড়লাম থেরই পেলাম না।আজ ২দিন হবো হসপিটালে। আগের বারে ৬দিন ছিলাম এই দেশে ,, সুস্থ হয়ে ফিরে গিয়ে একদিন পর আবারো আসতে হলো দেশে।
জানি না কবে সুস্থ হবেন দাদি,,,আমি ভগবানের কাছে কামনা করি দাদি যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়।আর কামনা করি সবাই যেন সুস্থ হয়ে চলে যেতে পারে।
লেখার তারিখ ২৮-২৯/০৬/২০২২
চাকমা কবিতা-ভাবী সহ্
“ভাবী সহ্”
📝 সুমন চাকমা
ও চাঙমাজাদর বাপ-বেই,মা-বোন লঘ
তুমি এক্কা মুরোত পুরি ভাবী সঅ!!
চেরোহিত্তে এজসঙ বানা হানানার রঅ্,
নেই চাঙমা উনোর বাজিবার হনঅ বঅ্।
তুমি এক্কা মুরোত পুরি ভাবী সঅ্।।
যেদক দিন যার,সেদক মিজি যেল আমি,
আজার আজার বাঙালঅ্ লঘে।
চাঙমা জাদর চেরাগ,লারেওর বোম্বা ওনেই পদ দেগে দিয়ে,
দাঙ্ঘু মানবেন্দ্র লারমারে আরিয়েই বেগে।
হি অলঅ্ আমার,এক্কা ভাবী সঅ্!
আমি হি পারিবোঙ বাজে?
আমা ভাজ,আমা সুদুম,আমা বিজগ,
আমা দেশ,আমা ধর্ম?
আমি হি পারিবোঙ তুজিমপুরো
চাঙমাজাদরে বাজে রাগে?
বাংলাদেশ সরকারর্ হু বুদ্ধিয়ে
আমা জাদর্ চাঙমাউনো ইদু চলের্ এজঅ
বেয়ে-বেয়ে,বাবে-পুদে মারামারি।
মোগে আরাদন নেক,মায়ে আরাদন পোঅ্
বাবে আরাদন আজার আজার স্ববন।
হি আন্দার লামি এলঅ্!?
হি অলঅ্ আমার,এক্কা ভাবী সঅ্!
পিজোর,,,!জাগি উদে মনত,
আসলে হি চাঙমাজাদর্ বেয়ে-বেয়ে
জুদো ওনে জাদর হদা ভাবঅ্দন?
নাহি বানা দাঙর নেতা ওবা উদিজে,
চাঙমা জাত্তরে হোত্তা হোত্তা গরঅ দন!!
হোমলে সুগ পিরিবো?
হোমলে আগঅ্ দিন এব্?
হোমলে এই মোন-মুরোত
অবেদর গুরি পুদিবাগ বিজুফুলুন!!
এক্কা ভাবী সঅ্।
হোত্তে হোত্তে এক্কা এক্কা গুরি হারি লোনেই,
এক্কা ভাবী সঅ্।
চোক্কুন মিলি জাগি উদো হুদু ঘুম জর তুমি,
উজে এজঅ্ উজে যেই একজোদা গুরি।
ও গাবুজ্জে-গাবুরি এজঅ্ উজে যেই,
গদা চাঙমা জাত্তো আগে আমারে রিনিসেই।
#########
Date:10/12/2021
সচেতনতা মূলক প্রবন্ধ
নীরব কান্না
লেখা:সুমন চাকমা
আজ ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি ফিরলাম।পাহাড়ে আমার জন্ম,তাই আমি মনে করি পাহাড় আমার অহংকার,পাহাড় আমার গর্ব,পাহাড় আমার অস্তিত্ব।ঢাকায় পড়াশোনার ব্যস্ততায় কতদিন পাহাড়ে ওঠা ও দেখা হয়নি।তাই খাওয়া-দাওয়া শেষে বিকেলে খুব আনন্দে পাহাড়ের উঁচু পথ বেয়ে উপরে উঠতে লাগলাম।
আমার মা বাড়ির উঠানে আমাদের চাকমা জাতির ঐতিহ্যবাহী ড্রেস পিনোন বুনন করছিলেন।
আর উঠানের এককোণে আমার বাবা বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি করেছিলেন নানা ধরনের আসবাবপত্র অর্থাৎ মারাল্লে,হাল্লোঙ। পাহাড়ের প্রতি আমার মুগ্ধতা ও ভালবাসা দেখে মা ও বাবা যেন অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে এবং মুচকি মুচকি হাসে ও আনন্দ
পায়।
তারপর প্রায় ৩০ মিনিট পর পাহাড়ের চূড়ায় পৌছালাম আমি। পাহাড়ের মলয় বাতাস,পাহাড়ের সুন্দর দৃশ্য আমায় আরো মুগ্ধ করে তোলে। পাহাড়ের চূড়া থেকে দূরের পাহাড়ের ভাঁজগুলোকে দেখতে খুবই ভালো লাগছিলো। আর পাহাড়ের ভাঁজে দেখা যাচ্ছে আমাদের অর্থাৎ চাকমাদের মাচার(মাটি থেকে কিছুটা উপরে) ঘরগুলো। দেখতে খুবই ভালো লাগছে। আর পাহাড়ের এক্ককোণে দেখা যাচ্ছে জুম্ম ধানের শীষ, সারি সারি করে দাঁড়িয়ে থাকা কলাগাছ।
কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করে বিনা মেঘে গুড়ি গুড়ি করে বৃষ্টি পড়তে লাগলো।তাই আমি পাহাড়ের চূড়ায় থাকা একটি ছোট জুম ঘরে ঢুকে পড়ি। আমাদের জুমঘর গুলো খুবই সুন্দর,,কারণ এই ঘরগুলো মাটি থেকে উপরে হয় আর সন দিয়ে তৈরি। সেখানে বসে বৃষ্টির ফোঁটা দেখতে আমার খুবই ভালো লাগছিল। বৃষ্টিটা মোটেই থামছিল না,, তাই আমি কিছুটা আলস্য বোধ করলাম,, আলস্য বোধটা কাটানোর জন্য আমি পকেট থেকে ইয়ারফোন বের করে গান শুনতে শুরু করলাম।,,
কিছুক্ষণ পর গান শোনা বন্ধ করে,,
বসে বসে চিন্তা করছিলাম, সময়ের সাথে সাথে সবকিছু বদলে যাচ্ছে,বদলে যাচ্ছে পোশাক-আশাক,বদলে যাচ্ছে রীতিনীতি, বদলে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, বদলে যাচ্ছে কথাবার্তা,বদলে যাচ্ছে সবকিছু। তারপর ভেবে দেখলাম, আমাদের চাকমা জাতির রীতিনীতি,ঘরবাড়ি, পোশাক-আশাক ও একটু একটু করে কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। নিজ জাতের পোশাক-আশাক ছেড়ে আমাদের চাকমা আদিবাসীর তরুণ-তরুণীরা যুগের সাথে তালে তাল মিলিয়ে যেন কেমন হয়ে যাচ্ছে অন্য জাতির মতো।
তারপর দেখলাম পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে পাহাড়ে নির্মিত হচ্ছে পর্যটন কেন্দ্র,, আমার মনটা কেমন জানি করে উঠলো। কারণ পাহাড়ে পর্যটন কেন্দ্র নির্মিত হওয়া মানে তো একটু একটু করে নিজের ভিটাকে হারিয়ে ফেলা। আর যেখানে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প, সেখানকার আশেপাশের জায়গা গুলো কেড়ে নিচ্ছে সেটেলাররা। সত্যি আগের মত আর এই পাহাড়ে কোন শান্তি নেই,সুখ নেই। সেই কবে ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর,,, বাংলাদেশ সরকার যে চুক্তি করেছিল যে এই পাহাড়ে আবার শান্তি ফিরে আসবে! কিন্তু কবে? আমার মনে বিশাল প্রশ্ন জাগে,,যে কবে ফিরে আসবে সেই শান্তি? কবে বাস্তবায়ন হবে সে শান্তি চুক্তি? পাহাড়ি মা-বাবার কবে শেষ হবে সেই শান্তির অপেক্ষায় থাকা দিনগুলো? কবে নিস্তব্ধ হবে পাহাড়ি মায়ের নীরব কান্না? আদৌ কি বাস্তবায়ন হবে সেই চুক্তি?
আমাদের চাকমা জাতির ছোট ছোট ভাই বোনেরা শিখছে, অন্য জাতির ভাষা, জানছে শুধুই অন্য জাতির ইতিহাস, অন্য জাতির স্বাধীনতার ইতিহাস,,! কবে পড়বে চাকমাদের ইতিহাস?কবে পড়বে চাকমা ভাষা?সেগুলো ভেবে ভেবে আমার মনটা যেন দুকরে কেঁদে ওঠে,,,, মনে মনে বলি যেন, এইতো আমরা সবকিছু হারিয়ে ফেললাম! হারিয়ে ফেললাম আমাদের ভাষা, ইতিহাস,রীতিনীতি,পোশাক-আশাক, ধর্ম সবকিছু!
তাই আমিও যেন নীরবে কোথায় হারিয়ে যায়, মনটা যেন দুকড়ে দুকড়ে কেঁদে ওটে। কিন্তু না এভাবে কেঁদে কেঁদে থাকলে তো কিছুই হবে না,মনে মনে ভেঙে পড়লে তো কিছু হবে না! এগোতে হবে, আমাদের জানাতে হবে সবকিছু,,, শেখাতে হবে সবকিছু ছোট ছোট ভাই-বোন,তরুণ-তরুণী নতুন প্রজন্মকে। আমরা যদি এভাবে আগেভাগে সচেতন হয়ে উঠি! তাহলে আমাদের জাতকে,আমাদের ইতিহাস কে বাঁচিয়ে রাখতে পারব!
লিখে লিখে, যে যেভাবে পারে ছিটিয়ে দিতে হবে আমাদের চাকমা ইতিহাস, চাকমা ভাষা সম্পর্কে। আর এভাবেই পাহাড়ি মা-বোনের,পাহাড়ি বাবা-ভাইয়ের নীরব কান্না থামাতে হবে।
এই চেতনা নিয়ে দৌড়ে ছুটে নেমে আছি পাহাড় বেয়ে।
সমাপ্ত